Saturday, December 13, 2014

তোমার শহর

নির্জনতা চুপি চুপি রাতের বেলা তাড়া করে
আমি মাতাল হতে রাজি
তোমায় যদি মনে পড়ে ।

সন্ধ্যে নেমে আসে
আমাদের পুরানো দপ্তরে
ঠিক তখনই আলো জ্বলে
তোমার ওই শহরে ।


অতীতের চাপে বর্তমানও দুলছে দোলাচলে
সময়সীমা বাঁধা নেই সম্পর্ক শেষের ফলাফলের ।

প্রতিটা ঋতু পরিবর্তনে
তুমিও বিবর্তনে
নতুন একটা মুখোশ পরো
নিজের সৌন্দর্যায়নে ।


তোমার হাতের খোদাই করা
পেরেক গাঁথা কবরে
প্রতি রাতে ঘুমতে যায়
তোমার ওই শহরে ।

Tuesday, July 15, 2014

প্রেমিকা বিসর্জন


তোমার সাথে সমস্ত সম্পর্ক ভেঙ্গে ফেলতে চাই,
ভুলে যেতে চাই তোমাকে নিয়ে জড়িয়ে থাকা সব স্মৃতি 
কিছু দিন 'প্রেম প্রেম' খেলা করে , প্রেমিকা বিসর্জনই আমার প্রেমের রীতি । 

ছেলেটির বাক্যবাণে এভাবেই ছিদ্র হয়ে জাচ্ছিল 
মেয়েটির হৃদয়, 
তবুও বেঁচে থাকা , তবুও নিঃশ্বাস-প্রস্বাস, 
তবুও প্রতিটা মুহূর্তে মৃত্যুজয় । 

সময়টা ছিল বিকেল,
হাজারটা লোকের পায়ের শাসনে শাসিত পার্ক সার্কাসের সেই সার্কেল 
মেয়েটির কাছে শুধুই মরু প্রান্তর, 
জনহীন , জলহীন...
নীরব থাকাটাই যেন তার প্রত্যুত্তর.........

কথাগুলো বলেই ছেলেটি এক দৌড়ে 
রাস্তাপার করে ভিড়ের সমুদ্রে মিলিয়ে গেল,
মেয়েটি দাঁড়িয়ে রইল,
নির্বাক , নিশ্চল হয়ে
এই city of joy এ পরাজয়ী হয়ে ;

তারপর ৪ বার অটো , ২ বার বাস পাল্টে 
একটা সোজা রাস্তা ঘুরপথে চলতে চলতে 
দু চার বার আছাড় খেতে খেতে 
মেয়েটি অবশেষে নিজের গন্তব্যে পৌছয় । 

দু মাসের অনিদ্রা 
একমাসের অনাহার 
একটা আলো-বাতাস হীন একলা ঘরে একটা মানুষের একটা প্রশ্নের হাজার বার চিৎকার...
যাদের ভালোবাসা সত্যি , যারা সত্যি ভালোভাসে 
তারা ব্যর্থ কি প্রতিবার?
তারাই কি প্রতিবার দুঃখে হবে জেরবার?

সময় গেল দুঃখকে নিয়ে,
ভগ্ন হৃদয় জোড়া লাগলো
মাস তিনেকের মধ্যেই বাবার দেখা ছেলেটা আমেরিকা থেকে ফিরে এল,
পরের মাসেই মেয়ের বিয়ে...... 

বিয়ের আগের দিন -
মেয়েটির বান্ধবীরা যারা মেয়েটির পূর্বের সম্পর্কের কথা জানত,
ওরা বলল- 'ভগবান ওর দিকে মুখ তুলে ছেয়েছে' 
মেয়েটির বাবা বলল- 'জীবনে সুখী হও ' 
মেয়েটির মা বলল - 'পুরানো সম্পর্ক সব ভুলে যা, নতুন করে সব কিছু শুরু কর'
মেয়েটি ভাবল- 'যা হয়েছিল ভালোই হয়েছিল, তাই আজ এত ভালো বর পেতে চলেছি'

বিয়ে হল , বর হল, সন্তান হল ;
হল বিশাল ফ্ল্যাটবাড়ি
ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্স , দু'চারটে গাড়ি 
সময়ের ব্লেডে কাটা পড়ল পুরানো সব স্মৃতি...
নিজের জীবনেও ঘুরপথে চলতে চলতে 
একবার আছাড় খেতে খেতেও 
নিজের জীবনের সুখী গন্তব্যে পৌঁছল মেয়েটি।



             'না' এখনও  শেষ হয়নি গল্পটা,
সেই ছেলেটাকে মনে পড়ে ? 
সেইদিন পার্কসার্কাসের ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যাওয়া ছেলেটা;
ওর টেবিল ঘাঁটলে আজও পাওয়া যাবে 
ঠিকানা বিহীন , ডাক টিকিট বিহীন ওর লেখা একটা চিঠি- 


'আমি ভিড়ের মধ্যে মিলিয়ে যেতেই এই পৃথিবীতে এসেছি,
মিলিয়ে যেতে দাও আমায়,
তলিয়ে যেতে দাও অতল জলাভূমির নিরালায় ;
ক্ষমা কর আমায়, ক্ষমা কর ।
তোমাকে দেওয়া কথা গুলো রাখতে পারিনি ,
আমি পাপী , আমি পাপী । 
আমার আকণ্ঠ পাপ , আর পাপের মেদে স্থূলকায় শরীরটা 
আমায় হারিয়ে দিল
তোমাকেও কেড়ে নিল 
তুমি তোমার গন্তব্যে পৌঁছেছ ঘুরপথে, 
আমি কোনদিনই পারব না ।
তুমি তোমার স্বপ্নগুলোকে বাস্তবায়িত করেছ ঘুরপথে 
আমি স্বপ্নই দেখে গেলাম , বাস্তবে ফলল না ।

শুধুমাত্র একটা জিনিস,
নষ্ট করেছে আমাদের স্বপ্ন,
অবাধ পতন হয়েছে আমাদের আশার,
সেই জিনিসটা ভগবান আমায় দিয়েছে উপহার
আমার শরীরে একটু একটু বাড়তে থাকা
    ব্লাড-ক্যান্সার  ।'

Friday, March 28, 2014

আগমনের ডাক ও ব্যর্থতা

আগমনী,
তুমি, চলা ফেরায় যে ভাবে মিশে গেছ
কথা বলায় যে ভাবে মিশে গেছ 
আমার সঙ্গে হাটায় যে ভাবে মিশে গেছ
তাতে মনে হয় তুমি হাজার বছর প্রাচীন,
পরক্ষনেই ভ্রম ভাঙ্গে , 
অঙ্ক বলে দেয় তুমি একেবারেই অর্বাচীন । 

ভালোবাসার প্রকৃত সংজ্ঞা বোঝার মতো অভিজ্ঞতা 
আমার ছিল না ;
ঘুরছি-ফিরছি , লিখছি-হাসছি তবুও যেন আমার আমি, 
আমি না । 

তোমার অন্যান্য বন্ধুরা হয়তো অনেক বেশি বুদ্ধিমান
অথবা বলতে পারো তোমার সাথে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্য 
অথবা প্রেম করতে সুদক্ষ-নিপুণ ;
আমি নাই বা হলাম পটু ;
নাই বা হলাম সাগরের রঙীন ঝিনুক;
তবুও কি ভেবে দেখা যায় না একবার ? 
আমার প্রেমের গাঢ়ত্ব - কয়েক সমুদ্র । 

২৪ ঘণ্টায় একদিন হয় জানতাম 
- আমার ২০ ঘণ্টা রাত্রি , বাকি ৪ ঘণ্টা ঘুমিয়ে কাটে । 
রাত্রি আমার জীবন , রাত্রি আমার জগত । 
তোমার যে আলো দিয়ে আলোকিত করো সহস্র শহর 
পারলে কণা মাত্র আমায় দাও - আমি ধন্য হব । 

সে দিন বললে ভালোবাসো অন্য কাউকে ,
কত সহজে বলা যায় তাই না ?
যতটা সহজে বললে, ততটা সহজে ভাবলে
আমি ব্যাপারটাকে সহজ ভাবে নিলাম ; 
অবশ্য আমি নিজেই এর জন্য দায়ী । 
কিন্তু আদতে যে সহজের পিছনে চরম সত্যটা - কঠিন । 

'তোমাকে পাওয়া' অথবা 'তোমাকে না পেয়ে আত্মঘাতী হওয়া'
এই দুই এর মধ্যে আমার কাছে 
দ্বিতীয়টা অনেক সহজ ও তুচ্ছ ।
প্রথমটা যখন করতেই পারবই না 
তখন দ্বিতীয় কাজেই মননিবেশই চরম শান্তি । 
তাতে আমিও ভালো থাকবো ,
তুমিও ভালো থেকো 
চিঠি দিও আমার নতুন ঠিকানায় ।
                                                          ইতি
                                                          ব্রাত্য
পুনশ্চ,
অনেকে আছে যারা তোমাকে আমার চেয়ে অনেক বেশী ভালোবাসবে,
আমি তুচ্ছ, আমি অবলুপ্তির পথের পথিক , তবুও তো  একবার হতে পারতে
আমার অবলুপ্তির পথটার শেষ মাইলস্টোন । 

Monday, February 24, 2014

অপরাধী কে?

১।

শহরতলির সৌন্দর্যায়ন,
অলিতে-গলিতে , রং করা দেওয়ালে তাই বিজ্ঞাপন দেওয়া বারণ ।

পাড়ার মোড়ের পাগল ছেলেটা
 অনেক পড়াশুনো শিখেছিল
বর্তমানে পাগলামির বশে বাহ্যিক হিত-জ্ঞান শূন্য হীন
রুক্ষ-শুষ্ক চুল দাড়ি , শরীর বাতাসে বিলীন ।

২।

এক দল পুলিশ , একটু টানা-হিঁচড়ে,
তারপর সোজা থানা ।
দারোগা বলে , 'তোর সব পাগলামি নেব উপড়ে,
জানিস তুই যা করেছিস তা অপরাধির সমান
বল কেন লিখলি সারা দেওয়াল জুড়ে রাত্রির নাম? "

৩।

বছর খানেক আগে
'ও' পড়াশুনোতে থাকতো লেগে,
তারপর আলাপ হয় নব প্রজন্মের অত্যাধুনিকা
সদা হাস্যময়ী , লাস্যময়ী রমণীর সাথে ।

কত কত আলাপচারিতা
বাঁধহীন বন্ধুত্ব
বন্ধুত্ব থেকে ভালোবাসা
'ওর' মনে জাগিয়েছিল নতুন আশা ।


(ছেলেটি) 'রাত্রি আমায় কোনদিন ছেড়ে যাবি না?'
               'যাবি নাতো ভুলে? '
(রাত্রি)   'পাগল হয়েছিস নাকি ?
             'এসব বললে তোর মাথায় মারবো , কানটা দেব মুলে '

৪।

ভালোবাসা বাড়ল, ঘনিষ্ঠতা বাড়ল
বাড়ল নির্ভরশীলতা,
একদিন বিকেলে রাত্রি ওকে ডেকে বলল
'ভুলে যা আমায়, ভুলে যা আমার সাথে কাটানো সময়টা'
       রাত্রি কথা রাখেনি............

৫।

রাত্রি চলে গেল
কিন্তু ছেলেটার মনে 'রাত্রি' নেমে এল নতুন করে,
এই রাত্রি ওকে ঠিক রাখতে পারলো না
কেড়ে নিল বুদ্ধি , লোপ পেল জ্ঞানের
তকমা বসলো পাগলের ।

৬।

থানা থেকে সোজা অ্যাসাইলাম...
অ্যাসাইলামের ছোটো ঘরগুলো বয়ে বেড়াচ্ছে
হাজার হাজার 'রাত্রি'র নমুনা,
এই 'রাত্রি'রা প্রতি রাতে কাঁদায়,
একটু একটু করে পাগলামির বিষ ঢেলে দেয় মনের খাঁচায়
আর আমাদের বার বার ভাবায়
সত্যি অপরাধী কে?
'পাগল ছেলেটি' না 'নিস্ফল রাত্রি' ?

Tuesday, February 11, 2014

তোমার আগমন...

১।


জীবন... হয়ে গেল আয়না
মাঝে মাঝে কিছু ছবি ধরা পড়ে
আসে... যায়...
শুধু তুমি যখন সামনে দাঁড়াও । 
বাকি সময়টা অন্ধকার ঘরের কোণে
ঘড়ির কাঁটার শব্দে
তোমার আগমনের আশায় বসে থাকি...... 

২।

আমি চোখ খুলি বা বন্ধ
পার্থক্য বুঝি না
কারন চারিদিকটা অন্ধকার
মাথা খুঁড়লেই পাওয়া যাবে
কারও জন্য আগমনী গানের চিৎকার ।